Freelance

ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে? ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য গাইড লাইন

ফ্রিল্যান্সিং কাকে বলে?

ফ্রিল্যান্সিং হলো এমন একটি মাধ্যম, যার মাধম্যে আপনারা অনলাইনে কাজ করবেন এবং সেই কাজের বিনিময়ে টাকা আয় করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন প্লাটফর্ম। এখানে আপনি যখন ইচ্ছা তখন কাজ করতে পারবেন। একজন চাকরিজীবি প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে ৪ টা পর্যন্ত অফিস করে। অনেকের তো সকাল ৮ টা থেকেও অফিস করতে হয়। কিন্তু ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে কিন্তু এমন ধরাবাধা কোন নিয়মনীতি নেই। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে টাকা উপার্জন করতে পারে। এজন্য ফ্রিল্যান্সিং কে মুক্তপেশা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এটাকে কিন্তু আপনি ব্যবসা ও বলতে পারেন।

যারা ফ্রিল্যান্সার তারা বিভিন্ন অনলাইন সোর্স থেকে কাজ খুজে নিয়ে নিজের ইচ্ছামত কাজ করেন। যারা এভাবে স্বাধীনভাবে ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করেন, তাদেরকে ফ্রিল্যান্সার বলে।

বর্তমানে ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলির মাধ্যমে, এই ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন ধরনের কাজ বা প্রজেক্ট খুঁজে এবং সেগুলি তারা তাদের ক্লায়েন্টসদের (clients) শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কমপ্লিট করে দেন এবং এই কাজের বিনিময়ে তারা ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে টাকা নেন।

আপনি যেই প্রজেক্ট বা কাজ করবেন বলে ভাবছেন, সেটি করার জন্য কত টাকা নিতে চান, সেটা আপনি আপনার ক্লায়েন্ট (client) এর সাথে আলোচনা করে আগেই ঠিক করে নিতে পারবেন। সঠিক ভাবে কাজ শেষ হওয়ার পর, আপনার টাকা আপনার একাউন্টে জমা করে দেওয়া হয়।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার সুবিধা অনেক। কারন এখানে আপনি নিজেই ঠিক করতে পারেন আপনি কখন কাজ করতে চান কিংবা কতটুকু কাজ করতে চান। তাছাড়া এটি আপনি ফুল টাইম করবেন নাকি পার্ট টাইম করবেন সেটাও আপনার ব্যক্তিগত ব্যপার।

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নেয়া কাজগুলি আপনি যেহেতু ঘরে বসেই করতে পারবেন তাই এর জন্য আপনার কোনো আলাদা জায়গার প্রয়োজন পড়বেনা। কারণ, এ কাজের জন্য যা প্রয়োজব তা হল – একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কানেকশন।

ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো, যেই কাজগুলোতে আপনার বিশেষ অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা আছে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সেই কাজ করে করে দিয়ে তার বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া।

অর্থাৎ, অন্যরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ আপনাকে দিবে। সেই কাজ যদি আপনি জানেন, তবে নির্ধারিত সময়ে আপনার তাকে সেই কাজ করে দিতে হবে। এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারবেন। যেমন, রাইটিং, ডিজাইনিং, সেলিং সার্ভিস, ডিজিটাল সার্ভিস ইত্যাদি বা যেকোনো অন্য কাজ যেটা আপনি জানেন এবং মানুষ আপনাকে দিয়ে করাতে চায়। এই কাজগুলিকে ঘন্টায় (hourly), ডেইলি (daily), সপ্তাহিক (weekly) বা মাসিক (monthly) ভাবে হিসেবে করা যায়।

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য

ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এমন দুটি শব্দ যা প্রায়শই একই অর্থ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তবে এই দুটি শব্দের অর্থ এবং কাজের দিক থেকে দুটি বিপরীত অবস্থান রয়েছে। অনেকে এই দুটি শব্দ একটিকে অপরটির প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহার করেন কারণ তারা এই দুটি শব্দের অর্থ জানেন না। আসুন এই দুটি শব্দের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক।

ফ্রিল্যান্সিং

What is freelancing? Guidelines for starting freelancing
What is freelancing? Guidelines for starting freelancing
  1. ব্যুৎপত্তিঃ  ‘ফ্রিল্যান্সিং’ (Freelancing) শব্দটি ‘ফ্রি’ (Free) এবং ‘ল্যান্স’ (Lance) শব্দ থেকে উদ্ভূত। ‘ফ্রি’ (Free) অর্থ ‘স্বতন্ত্র’ এবং ‘ল্যান্স’ (Lance) অর্থ ‘যন্ত্রপাতি’। সুতরাং ‘ফ্রিল্যান্সিং’ (Freelancing) এর অর্থ ‘স্বতন্ত্রভাবে কাজ করা’।
  2. সংজ্ঞাঃ কোন ও বাধ্যবাধকতা ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করে উপার্জন করাকে ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) বলে।
  3. সম্পর্কঃ একজন ফ্রিল্যান্সার কোনো একটি টাস্ক গ্রহণ করেন এবং বাইরের উৎস (আউটসোর্স ঠিকাদার) কর্তৃক তাকে টাস্কের অর্থ প্রদান করা হয়।
  4. ফাংশনঃ একজন ফ্রিল্যান্সার একজন স্বতন্ত্র শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। কোনও কাজ করতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা তার নেই। তিনি যখনই চান তখনই কাজটি করতে পারেন। যদি তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সমাপ্ত করে জমা দেন তবে তিনি বেতন পাবেন অন্যথা তাকে কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।
  5. পারিশ্রমিকঃ একজন ফ্রিল্যান্সার কে তার কাজ অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হয়। তিনি পেমেন্ট/পারিশ্রমিক পান কিন্তু বেতন পান না।
  6. উদাহরণঃ ধরুন, “এম এইচ মামুন” একজন ফ্রিল্যান্স লেখক। একটি কাজের জন্য তিনি “সাকিবের” থেকে একটি প্রস্তাব পান। “সাকিব” তাকে প্রতিটিতে কমপক্ষে ১০০০ শব্দ যুক্ত তিনটি নিবন্ধ লেখার জন্য তিনটি বিষয় দিলেন। “সাকিব” প্রতি নিবন্ধে অর্ণবকে ৩০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এখন, মামুন চাকরি নেওয়া বা ছেড়ে দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে, আর একেই মূলত ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়।
  7. সুবিধাঃ ১) আপনার অবশ্যই বাধ্যবাধকতা নেই যে কোনো একটি নির্দিষ্ট কাজ আপনাকে করতেই হবে।                        ২) এমন কোনো নিয়ম নেই যে আপনাকে অবশ্যই সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা বা সকাল ১০ টা এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে কাজটি শেষ করতে হবে। আপনি যখনই চান কাজটি করতে পারেন।

৩) কেউ আপনার উপর কর্তৃত্ব জারি করতে পারবেন না। আপনি ই আপনার নিজের কর্তা হবেন।

৪) ফ্রিল্যান্সিংয়ে সবকিছুই নমনীয়। আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।

  1. অসুবিধাসমূহঃ 

১) সবসময় ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এ পারিশ্রমিক না পাওয়ার একটি ঝুঁকি থেকেই যায়। এমন কোনো গ্যারান্টি নেই যে আপনাকে অর্থ প্রদান করাই হবে বা আপনাকে কোনো একটি কাজ দেওয়াই হবে।

২) ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) এর কাজ সবসময় পাওয়া যায় না। আপনি যে কাজটি করতে চান তা আপনি সর্বদা খুঁজে না-ও পেতে পারেন।

৩) ফ্রিল্যান্সিংয়ে কোনও নির্দিষ্ট আয় নেই। আপনি এক মাসে ১ লাখ থেকে ১০ হাজার যেকোনো পরিমাণের উপার্জন করতে পারেন। এটি আপনি কতটা কাজ পেতে পারেন, করতে পারেন বা করতে চান তার উপর নির্ভর করে।

 

আরো পড়ুনঃ ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে প্রশ্নত্তর পর্ব ০২ | নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

আউটসোর্সিং

 

  1. ‘আউটসোর্সিং’ (Outsourcing) শব্দটি ‘আউট’ (Out) এবং ‘উৎস’ শব্দ থেকে উদ্ভূত। সুতরাং, ‘আউটসোর্সিং’ (Outsourcing) অর্থ ‘বাইরে থেকে কোনো উৎস’ পাওয়া’।
  2. আউটসোর্সিং (Outsourcing) হলো একজন ফ্রিল্যান্সার দ্বারা তাকে চাকরি তে নিযুক্ত করা ব্যতিতই বেতন দিয়ে কোনো কাজ করানো।
  3. একজন আউটসোর্স ঠিকাদার ফ্রিল্যান্সারকে কাজ এবং অর্থ প্রদান করেন।
  4. একজন আউটসোর্স ঠিকাদার কাউকে নিয়োগ না করে কেবল তার কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে নিজের সম্পদের ব্যবহারের সর্বাধিকতা বাড়ানোর জন্য টাস্ক সম্পন্ন করিয়ে নেন। আউটসোর্স ঠিকাদার সংস্থা এবং ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবেও কাজ করতে পারেন
  5. একজন আউটসোর্স ঠিকাদার ফ্রিল্যান্সারদের তাদের কাজগুলি অনুযায়ী অর্থ প্রদান করেনা। তাকে তার এই কাজটি করা ব্যক্তিকে কোনও বেতন দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
  6. “সাকিব হাসান রুহিন” এই ক্ষেত্রে একজন আউটসোর্স ঠিকাদার। তিনি একটি সংস্থার কর্মচারী। সংস্থাটির ওয়েবসাইটের জন্য কিছু নিবন্ধ প্রয়োজন। দক্ষতার সাথে লিখতে পারেন এমন কোনও কর্মচারী নেই। সুতরাং, পূর্ণ-সময়ের জন্য একজন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে সংস্থাটি কাজ করার জন্য একজন ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ করে। সুতরাং, এই আউটসোর্সিং সংস্থাটির জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণের অর্থ সঞ্চয় করে।
  7. ১) আউটসোর্সিং (Outsourcing)এর মাধ্যমে, আপনি সর্বনিম্ন পরিমাণ সংস্থান এবং অর্থ ব্যয় করে কাজটি করতে পারেন।

২) আপনার অতিরিক্ত অফিসের জায়গার দরকার নেই এবং শ্রমিকের কাছে আপনার দায়বদ্ধ থাকারও কোনো প্রশ্ন নেই।

  1. ১) কাজটি আপনি সম্পন্ন করাতে পারবেন এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। একজন ফ্রিল্যান্সার (Freelancer) সর্বদা কাজটি করতে অস্বীকার করতে পারে।

২) আপনি প্রতিবার আউটসোর্সিং (Outsourcing) করে মানসম্পন্ন কাজ পাবেন না।

৩) কাজটি শেষ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় নিতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য গাইড লাইন

ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক কয়েকটি ছোট খাট প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমার এই পোস্ট। যে কয়েকটি প্রশ্ন ফ্রীল্যান্সিং শুরুর আগে যে কারো মনে উদয় হয়। দেখি আমি কি কি বিষয় লিখতে পারি এখানে। তবে একটি লিস্ট করে ফেলি তার আগে। সত্যি বলতে কি, আমি আমার ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে দুটি পোস্ট করার পর এ প্রশ্ন গুলোর সম্মুক্ষীন হয়েছি। তার থেকে চিন্তা আসল সব গুলো প্রশ্ন এক করে একটা পোস্ট করার, যেন যারা আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারে না তারাও উপকৃত হয়। তার পর একটা একটা করে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করবঃ

  1. ফ্রিল্যান্সিং কেন করব।
  2. ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কি কি কাজ করা যায়?
  3. আমি কোন কাজ পারি না, আমি কিভাবে ফ্রীল্যান্সিং করব?
  4. ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আমার কোন আইডিয়া নেই। আমি কি করব?
  5. আমার কি কি শিখা উচিত?
  6. আমি কোন সাইটে কাজ করা শুরু করব?
  7. আমি কিভাবে ফ্রীল্যান্সিং শুরু করব।
  8. আমি মোটামুটি কাজ পারি, কিন্তু কি করব বুঝতে পারছি না।
  9. আমি কাজ পারি, বিড করে যাচ্ছি কিন্তু কাজ পাচ্ছি না।
  10. কভার লেটার লেখার নিয়ম
  11. টাকা কিভাবে পাবো?

ফ্রিল্যান্সিং শব্দটার মানে কি? কিভাবে শুরু করব?

নতুনরা ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে জানলেও কিভাবে শুরু করবে বা কিভাবে কি করবে তা নিয়ে আসলে দ্বিধায় থাকে। তাই বিভিন্ন এক্সপার্টদেরকে বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকে “ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে করব?” যার ফলে তারা বিরক্তবোধ করেন । তাই আজকে মোটামোটি একটা গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করছি যাতে প্রসেসগুলো অনেকটা পরিষ্কার হয়ে।

  1. নতুনেরা ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে জানলেও কীভাবে শুরু করবেন বা কীভাবে কী করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে যেসব যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, সেগুলোর অন্যতম হলো:                                                            ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, বিশেষ করে ইংরেজিতে ভালো লিখতে পারতে হবে।                                ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারণা।                                                                                                                         গুগল ও ইউটিউবের ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে আনার দক্ষতা।                                                      প্রথমত এই দক্ষতাগুলি থাকলেই আপনি Freelancing এর যোগ্য। এখানে কোনপ্রকার একাডেমিক সার্টিফিকেটের মূল্যায়ন নেই, মূল্যায়ণ দক্ষতার।
  2. ফ্রিল্যান্সি এ কি কি কাজ করা যায়?

নতুনরা প্রায় সবাই এই প্রশ্নটি করে থাকে, ভাই কাজ পেতে কত দিন লাগবে বা কিভাবে পেতে পারি? এটা একটা কমন প্রশ্ন সবার। কিন্তু ভাই কাজ পাবার আগে কাজ টা তো ভালো ভাবে শিখতে হবে আপনি যদি কাজ না শিখেই কাজ পাবার আশা করেন তাহলে তো আপনার চিন্তা-ধারা ভুল। যে কোনো কাজই শিখতে চান না কেন, আগে ভালোভাবে আপনাকে শিখতে হবে। তারপর কাজ পাওয়ার চিন্তা করতে হবে।

তবে বর্তমানে যে কাজের চাহিদা বেশি মার্কেট এ তা নিচে উল্লেখ করা হলো: 

  1. ওয়েব ডিজাইন
  2. ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  3. ওয়ার্ড প্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট
  4. গ্রাফিক্স ডিজাইন
  5. কনটেন্ট রাইটিং
  6. মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট
  7. লিড জেনারেশন
  8. অ্যাডমিন সাপোর্ট
  9. কাস্টমার সার্ভিস
  10. ইন্টারনেট রিসার্চ এন্ড ডাটা এনালাইসিস
  11. প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট
৩) কোন কাজটা সহজ? কোন কাজটা করলে ভাল হবে এবং আয় করা যাবে?

এইসব প্রশ্ন করা বোকামী। যাকে এই প্রশ্নটা করবেন সে অবশ্যই নিজে যে কাজটা করে সে কাজটাকেই সহজ বলবে, কারণ সে কাজটা তার কাছে সহজ । আপনার যে বিষয়টি ভালো লাগে, সে বিষয়ের ওপর ভিডিও দেখুন, গুগল করুন, জানুন। এরপরও যদি মনে কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে আপনার পরিচিত বা আশপাশে যাঁরা ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাঁদের জিজ্ঞেস করুন। তবে মনে রাখা জরুরি, কাজ পাওয়ার আগে সে বিষয়ে ভালোভাবে শিখতে হবে। আপনি যদি কাজ না শিখেই কাজ পাওয়ার আশা করেন, তবে আপনার ধারণা ভুল।

৪) কাজ কিভাবে শিখব?

কোনটা নিয়ে কাজ করবেন ঠিক করার পর এবার শিখার পালা। শিখার জন্য আপনাকে কোন প্রশিক্ষকের কাছে যেতে হবে, তবে ভাল প্রশিক্ষক হতে হবে। বর্তমানে অহরহ প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে যেগুলো নামে শেখায় । যারা অনলাইনে ভাল কিছু করতে পারেনি তারাও এখন প্রশিক্ষক, কারণ কিভাবে ইনকাম করতে হয় সেটা শিখিয়ে ইনকাম করাটা অনেক সহজ। সুতরাং ভাল শিখায় এবং ভাল সাপোর্ট দেয় এমন প্রতিষ্টানে যেতে হবে । কারণ, সফলতা অনেকাংশেই শিখানোর উপরে নিরভর করে। এমন প্রতিষ্টান হাতে গুণা কয়েকটা আছে। আর মনে রাখবেন জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা, এই প্রতিযোগিতায় সবাই জয়ী হতে চাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজনই প্রথম হয়। আমরা সবাই জয়ী হতে চাই কিন্তু পরাজয় থেকে প্রকৃত শিক্ষাটা আর নেই না।

যেভাবে শুরু করা যায়

খুব সহজ, কোথাও যেতে হবে না আপাতত। গুগল আর ইউটিউব হতে পারে সবার জন্যই তাৎক্ষণিক বড় শিক্ষক মশাই। আপনার যে বিষয়টি ভালো লাগে, সে বিষয়ের উপর ভিডিও দেখেন, গুগুল করেন। জানুন। একাধিক বিষয়ও থাকতে পারে। ট্রাই করুন। সময়দিন। মনোযোগ সহকারে। আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন- কোন বিষয়টি (নিস) আপনার জন্য। শুধু তাই নয়- সেই বিষয়ে (স্কিল-সেট) আপনি মোটামুটি জেনেও যেতে পারবেন এভাবে।

পরিশেষে

আপনি যেটাই শেখেন না কেন আপনি যদি আপনার জায়গা থেকে আপনার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেন তাহলে আপনিও একদিন সফল হবে । আপনাকে অনেক মানুষ অনেক কথাই শোনাবে । কিন্তু তাকে আপনার জন্যই ভালো হবে। আপনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাবেন । কাউকে কথার জবাব দিবেন না। আপনার সময় আসবে আপনিও তার কথা কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দেবেন । মনে মনে এটাই টার্গেট করেন বাকিটা আল্লাহ্‌ ভরসা। 

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন । ঘরে থাকুন, সেফ থাকুন । করোনা থেকে নিজেকে এবং আপনার পরিবারকে সেফ রাখুন । ধন্যবাদ সবাইকে । আল্লাহ্‌ হাফেজ 

রিসার্চ এবং লেখাঃ এম এইচ মামুন । 

MH Mamun

{শেখাও}, {আর না হলে শেখো} {যদি চুপ চাপ থাকো} {তাহলে তোমার ফাঁকা খুলি দিয়ে কি হবে?}

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button